এটা তুদের দেশ নয়, ওখানে গিয়ে আশ্রয় নে

পালংখালী আন্জুমান সীমান্ত দিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ লাইন।

হুমায়ুন কবির জুশান উখিয়া ::
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে। যারা দেশ ত্যাগ করবে না তাদের হত্যা করা হবে। রোহিঙ্গাদের স্বদেশ ছাড়তে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে তারা।

এতে গতকাল ১ দিনে উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। উখিয়া পালংখালী আন্জুমান পাড়া সীমান্ত দিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এসব জানিয়েছেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, তাদেরকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে এদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। না হয় গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। যারা তাদের কথা মতো বাড়ি-ঘর থেকে বের হতে একটু দেরি করছেন, তাদেরকে সবার সামনে গুলি করা হচ্ছে।

গতকাল পালংখালী আন্জুমান পাড়া সীমান্ত পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, দলে দলে রোহিঙ্গারা ঢুকছেন। সবার মুখে হতাশা-আতঙ্ক। প্রান বাচাঁতে যে যার মতো প্রবেশ করেছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ছড়িয়ে পড়ছেন, বিভিন্ন ক্যাম্প, পাহাড় ও জঙ্গলের ভেতরে।

গতকাল শনিবার মিয়ানমারের মংডু উদং গ্রামের হামিদ (৩২) হাইচ্ছুরতা এলাকা থেকে নুর বানু (২২)। চানছি মিপং বুচিডংয়ের কলিম উল্লাহসহ অসংখ্য রোহিঙ্গার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

তারা বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের বলেছেন, এটা তুদের দেশ নয়, বাংলাদেশ হলো তুদের দেশ। তুদের অনেক স্বজন বাংলাদেশে বসবাস করছে। ওখানে গিয়ে আশ্রয় নে তাড়াতাড়ি। যদি এখানে (মিয়ানমারে) থাকিস, তাহলে গুলি করে সবাইকে হত্যা করা হবে। যারা বাড়ি-ঘর থেকে বের হতে একটু দেরি করছে, তাদের হত্যা করা হচ্ছে।

মিয়ানমার বুচিডং এলাকার নুর আয়েশা (৩০) বলেন, আমার স্বামীকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী একটু দেরি করায় বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করেছে। কয়েক ঘন্টার মধ্যে সবার সবাই মালামাল নিয়ে সীমান্তে চলে আসি। যে যার মতো করে বন-জঙ্গল ও সীমান্তে আশ্রয় নিই। একদল রোহিঙ্গার সঙ্গে উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে চলে আসি।

পালংনিউজ টুয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।