উখিয়ায় রোহিঙ্গা যুবক খুন !

শ.ম.গফুর, উখিয়া ::

নিষ্ঠুর। হৃদয় বিদারক দৃশ্য। ওপার থেকে প্রান ভয়ে পালিয়ে এসে এপার ডিঙ্গিয়ে কক্সবাজার শহরে আবাস হতভাগা রফিকের। মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়াটাই অপরাধ তাঁর। বাড়িঘরে তেমন একটা স্থায়িত্ব নন। ২/৩ দিন পর -পর বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত রফিক। আবার কয়েকদিন পর ফিরতো নিজের ইচ্ছায়। কে জানতো তাঁর এমন ভয়ানক মৃত্যু হবে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে এলেও ফের নির্মমতার কাছে হেরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন রফিক নামের এক রোহিঙ্গা যুবক। শিশু চুরির অভিযোগ এনে কক্সবাজারে উখিয়ার কুতুপালং সংলগ্ন, কক্সবাজার -টেকনাফ সড়কের মুরাদ সাহেবের বাগানের পশ্চিম পাশে তাকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি, লাথি ও গাছে বেঁধে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত নতুন আসা একদল রোহিঙ্গা নামের দানব।

স্থানীয় প্রতক্ষ্যদর্শীরা বলেছেন গত (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে ৩০ -৪০ জনেরও বেশি নতুন আসা রোহিঙ্গা ওই রোহিঙ্গা রফিকের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে অনেক তরুণ ছিল। রোহিঙ্গা যুবক রফিক (২৫) কে গাছের সঙ্গে বাঁধার আগে প্রাণভিক্ষা চান তিনি।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া -টেকনাফে । সেখানেই শিশু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ যায় ওই রোহিঙ্গার। রোহিঙ্গা এই ব্যক্তিকে গণপিটুনির দৃশ্য ধারণ অনেক রোহিঙ্গা, মিডিয়া কর্মীও।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চারদিক থেকে উত্তেজিত জনতা তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করছে। এসময় তিনি আঘাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান। গণপিটুনির এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রফিক।

নিস্তেজ শরীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েও রেহাই মেলেনি তার। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারপিট করা হয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে প্রাণ ভিক্ষা চান তিনি।শেষ একটি ছবিতে দেখা যায়, নিষ্ঠুর নির্মমতার কাছে হার মেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই রোহিঙ্গা।

নিহত রোহিঙ্গা যুবক রফিক গত কয়েক বছর আগে মিয়ানমারের মগ সেনাদের নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। আশ্রয় নেয় কক্সবাজার পৌর শহরের লাইট হাউস পাড়ায়। সাথে মাতা আবেদনাদি খাতুন, এক ভাই ছিল।

রফিক বিবাহিত হলেও মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়ায় এক সময় স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। রফিকের আরো ছোট ৩ ভাই রয়েছে। হামিদ হোছন (২০) নামের ছোট ভাই পরিচয় দিলেও ছোট আরো দুই ভাইয়ের নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তবে রফিকের স্ত্রীর নাম নুরজাহান বলেন।

তার মিয়ানমারের বাড়ি বুচিডিংয়ের হাড্ডি খোলা গ্রামের মৃত আলী আহমদের ছেলে। ঘটনার দিন (১৬ সেপ্টেম্বর) রফিকের মরদেহের চারপাশে ঘিরে রয়েছে লোকজন।

এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, আমি এঘটনায় শুনি নাই। এ প্রথম আপনার কাছ থেকে শুনেছি বলে জানান।

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলিম গোষ্ঠী রোহিঙ্গারা দেশটিতে পরিকল্পিত নিপীড়নের শিকার হয়ে তাদের নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে দশকের পর দশক ধরে রাখাইনে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে তারা।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর কঠোর সেনা অভিযান শুরু হয়।জাতিসংঘ বলছে, রাখাইনে ‘জাতিগত নিধন’ অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

আশ্রয়ের মাঝে নিরাপদ আবাস মনে করলেও রোহিঙ্গা ভাইরা তাঁকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে জানে মেরে মগ সেনাদের চেয়ে দানবের পরিচয় পেল মৃত রোহিঙ্গা যুবক রফিক।

পালংনিউজ টুয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।