সপ্তাহের মধ্যে দু’দফা বাড়ছে চালের দাম

(প্রশাসনিকভাবে বাজার মনিটরিং না হলে আরো বাড়তে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের)

সাইফুল ইসলাম ::
সপ্তাহের মধ্যে দু’দফা বেড়েছে চালের দাম। ১মধাপে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বাড়লেও ২য়ধাপে বেড়েছে ছয় থেকে সাত টাকা। এবাবে সপ্তাহের মধ্যে দু’বার চালের দাম বাড়িয়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে গরিব ও ম্যধ্যবিত্তি মানুষ। দিনদিন চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মিল মালিকদের কারসাজিকেও দায়ী করছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

তারা আরো দাবি করেন, বন্যা ও রোহিঙ্গার কারণে চালের দাম বাড়ছে। হঠাৎ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আসায় চালের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে দামও বাড়ছে। তবে প্রশাসনিকভাবে বাজার মনিটরিং না হলে দিনদিন চালের দাম আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করেন স্থানীয়রা।

এছাড়া খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে দাম বেড়েছে। কিছু ব্যবসায়ী চাল মজুদ করে বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। আর এতে করে সিন্ডিকেটের কাছে চলে যাচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তবে মিল মালিকরা এসবের জন্য দায়ী করেছেন সরকারের অব্যবস্থাপনাকে।

আজ বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহরে চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহে দু’দফা চালের দাম বাড়ায় মোটা চালসহ সব ধরেণের চাল কেজিতে ছয় থেকে সাত টাকা বেড়েছে। এবং বস্তার প্রতি ৪শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা বেড়েছে।

খুচরা দোকানে প্রতিকেজি মোটাচাল পুরাতন ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে নতুন চাল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, পারিজা চাল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, নি¤œমানের চাল ৪২ থেকে ৪৩ টাকা, উন্নতমানের মিনিকেট চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাক, নাজিরশাইল আতপ চাল ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা, সিদ্ধ নাজিরশাইল চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বাসমতি আতপচাল ১৬৮ থেকে ১৭০ টাকা, এবং পোলাওর চাল ১২০-১২৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। সপ্তাহে পূবেই সব ধরণের চাল কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কম ছিলো। একইভাবে বস্তার প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়েছে।

বড়বাজারে চাল ক্রয় করতে আসা মোবারক আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি একজন দিনমজুরী দিনে কাজ করে তিনশত থেকে চারশত টাকা পায়। আমার ছেলে ও মেয়েসহ মোট ৮ জন সদস্য আছে আমার পরিবারে। দিন দিন যদি চালের দাম বাড়তে থাকে আমরা গরীব লোক কিভাবে চলব।

বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা রফিক আলম বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে চালের দাম বেড়েছে, যারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালের বাজারটাকে জিম্মি করে রাখে।

শহরের পিটিস্কুল বাজারের চাল বিক্রেতা নুরুল হুদা জানান, সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম দুইবার বেড়েছে। কেজির প্রতি ১মধাপে তিন থেকে চার টাকা ও ২য়ধাপে ৫ থেকে ছয় টাকা। এভাবে বস্তার প্রতি ৪শ থেকে ৫শ টাকা বাড়ায় চাল কিনতে মানুষ প্রতিনিয়তে হিমশিম খাচ্ছে।

 

পালংনিউজ টুয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।