রোহিঙ্গাদের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কক্সবাজারের মানুষ

পিএন২৪ ডেস্ক – অস্বাভাবিক ভাবে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে কক্সবাজার জেলার মানুষ। বিশেষ করে টিকা বিহিন অসংখ্য নারী শিশু উখিয়া টেকনাফে অবস্থান করায় তাদের কারনে কক্সবাজারের স্থানীয় নারী শিশুরা আবারো হাম রুবেলা সহ পোলিও রোগের ঝুকিতে পড়তে পারে। এছাড়া যত্রত্রত মলমূত্র ত্যাগ করায় পানি বাহিত অনেক রোগ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ইতি মধ্যে রোহিঙ্গা শিশুদের টিকার আওতার আনার কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ। তবুও রোহিঙ্গাদের বিশাল একটি অংশ বিছিন্ন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় স্বাস্থ্য ঝুকির আশংকা রয়ে যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী শিবিরে ৩ দিনআগে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী জান্নাত আরা, তার সাথে আছে ১ টি ৫ বছরের ছেলে শিশু আরেকটি দেড় বছরের মেয়ে শিশু জানতে চাইলে জান্নাত আরা বলেন টিকা কি জিনিস সেটা তিনি জানেন না আগে কোন দিন শিশুদের টিকা দেওয়া হয় নি। এমনকি হাম রুবেলা সহ পোলিও টিকা বিষয়ে জানেন না তিনি। একই সাথ মুরশিদা বেগমের সাথে আছে ২ মাসের শিশু আর ৪ বছরের ছেলে শিশু তিনি ও কোন দিন আগে ছেলে মেয়েদের টিকা দেন নি। তাদের মতে মায়ানমারে ঠিকমত খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকায় দায় সেখানে নারী শিশুদের টিকা বা স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে ভাল ভাবে খাকার কোন সুযোগ নেই। সেখানে প্রতি মূহুর্তে থাকতে হয় আতংকে কখন বাড়িঘর জালিয়ে দেয় সে চিন্তায়। এদিকে বর্তমানে উখিয়া টেকনাফে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে যাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী শিশু। আর এসব নারী শিশুদের মধ্যে বেশির ভাগই পূর্বে হাম রুবেলা, পোলিও সহ অন্যান্য জটিল রোগের টিকা দেওয়া হয় নি। যার ফলে বর্তমানে কক্সবাজারের মানুষ স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে আছে।

টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম বলেন রোহিঙ্গার চাপে বিপর্যস্ত এখন টেকনাফ হাটে মাঠে পাহাড়ে জঙ্গলে সর্বত্র এখন রোহিঙ্গা, তারা রাতে দিনে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করছে। আমার জানা মতে টেকনাফ সহ পুরু কক্সবাজার নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবাতে ছিল কিন্তু এখন কয়েক লাখ রোহিঙ্গার কারনে আবারো আমরা স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়বো। আমার জানা মতে রোহিঙ্গারা কোন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা বা টিকাদান কর্মসূচীর আওতার মধ্যে ছিল না।

এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মেজবাহ উদ্দিন আহামদ বলেন স্বাস্থ্য ঝুকির কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে কুতুপালং ক্যাম্পে ৫ বছরের নীচে যে সমস্ত শিশু আছে তাদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে, তবে সমস্যা হচ্ছে সবাইকে এক জায়গায় পাওয়া যায় না। অনেকে এখনো ভাসমান অবস্থায় আছে তাদের মাধ্যমে ঝুকির বিষয়টা রয়েই যায়। তবে আমরা চেস্টা করছি সবাইকে টিকার আওতায় আনার জন্য।

আলাপকালে কক্সবাজার জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন ইতি মধ্যে মায়ানমার থেকে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য একটি বিশাল স্বাস্থ্য ঝুকির কারন, তারা অতীতে কোন সময় টিকা, স্যনিটেশন, বা অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি বিষয়ে জানে না, তারা সামাজিক যে অনেক অপরাধ করবে সেটা বাদ দিলেও রোহিঙ্গাদের কারনে স্থানীয় জনগোষ্ঠি চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে থাকবে এটা নিশ্চিত। আমাদের দেশে টিকা জনিত যে সব রোগ নিরাময় করা যায় সে সব রোগ থেকে শতভাগ নিরাপদ আছি কিন্তু এখন রোহিঙ্গাদের কারনে আমরা অনিরাপদ হয়ে গেলাম। তাই এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের সহকারি সিভিল সার্জন ডাঃ মহিউদ্দিন মোঃ আলমগীর বলেন টিকা জনিত রোগ নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য ইতি মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ শুরু করেছে। তবে তারা যেভাবে সর্বত্র মলমূত্র ত্যাগ করছে এতে জিবানু ছাড়চ্ছে এর কারনে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আর এই বিপুল জনগোষ্ঠি নিয়ে কাজ করতে অনেক সময়ও লাগবে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ আবদুস সালাম বলেন আমরা স্বাস্থ্য ঝুকির কথা মাথায় রেখে ইতি মধ্যে বেশ কয়েক টি টিমের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূর্চী শুরু করেছি। তবে সমস্যা হচ্ছে ক্যাম্পেতো সবাই নেই বিশাল একটি অংশ ক্যাম্পের বাইরে রয়ে গেছে তাদের কে কর্মসূচীর আওতায় আনা গেলে আরো দ্রুত ফলাফল পাওয়া যেত। আর যে কোন ধরনের পরস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।

দৈঃ কক্সবাজার

পালংনিউজ টুয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।