ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার পর্যটনে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

পিএন২৪ ডটকম – ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখরিত হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। লাখো পর্যটকের উপচে পড়া ভিঁড়ে বর্ষার মন্দা সময়েও বিপুল পর্যটকের উপস্থিতিতে কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

সমুদ্র সৈকতে গিয়ে দেখা গেল, বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ-শিশুর অপূর্ব মিলন মেলা। সৈকতের পানিতে উত্তাল ঢেউয়ে গা ভাসিয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতেছে অসংখ্য পর্যটক। উদ্ধার কর্মীরাও সতর্ক দৃষ্টি নিয়ে বসেছে যে কোনো ধরণের দুর্ঘটনা মোকাবেলায়।

ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। নানা বয়সী পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সৈকত। সাগরের নীল জলরাশিতে উচ্ছ্বাসে মেতেছে আগত পর্যটকরা। পর্যটক আগমণে যেমন ব্যবসায়ীরা খুশি, তেমন কোনো ভোগান্তি না থাকায় আনন্দিত পর্যটকরাও। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

লাইফ গার্ডের উদ্ধার কর্মী সৈয়দ নূর জানান, ঈদের ছুটিতে সকাল থেকেই পর্যটন নগরীতে পর্যটকদের ভিঁড় দেখা দিয়েছে। বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ২ কিলোমিটার স্থান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘সৈকতে লোকজনকে সতর্ক করে দিচ্ছি। যাতে বিপদজনক অবস্থানে কেউ না যায়। এরপরও উদ্ধার কর্মীরা রয়েছে যে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে। ’

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সালমান করিম।
তিনি জানান, ‘ঈদের ছুটি উপভোগ করতে কক্সবাজারে আসা। প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসলে মনটা ভাল হয়ে যায়। ’

আবার নোয়াখালী থেকে আসা পর্যটক নুরুল কবির বলেন, বন্ধুদের নিয়ে হৈ চৈ করে ভালো সময় পার করছি।

পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল লাবনী’র ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম জানান, ঈদের দিন থেকে পরবর্তী ৩ দিন তাদের সকল কক্ষ অগ্রীম বুকিং হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে প্রত্যাশার চেয়েও পর্যটকের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পর্যটন সংশ্লিস্ট সকল ব্যবসায়ী খুশি।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সোলতান জানান, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ছুটে আসছে হাজারো পর্যটক। তিনি আরো জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইনানীতে পাথরে সৈকত, টেকনাফ, হিমছড়ির ঝর্ণা, ডুলহাজারা সাফারী পার্কসহ কক্সবাজার জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভীঁড় বেড়েছে। আরো কয়েকদিন থাকবে এই অবস্থা।

কক্সবাজারের প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল মোটেল রয়েছে। এসব হোটেল মোটেলে ২ লক্ষাধিক পর্যটকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এসব হোটেলের সব কক্ষে এখন পর্যটক রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব ওমর সোলতান।

বিরুপ আবহাওয়া ও বন্যার আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভাল থাকায় গতকাল থেকে পর্যটকের আগমন ঘটছে কক্সবাজারে। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে সাগর পাড়ের বালিয়াড়িতে আনন্দে মেতে উঠছে কক্সবাজারে আসা ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলোকে নানাভাবে সাজানো হয়েছে। সংস্কার করে নতুন করে সাজানো হয়েছে হোটেলগুলো। সৈকতে আনন্দে মেতেছে পর্যটকরা। পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসে ভাল লাগার কথা জানান, চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে কক্সবাজার এসে অনেক ভাল সময় কাটাচ্ছি।

তবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের হাতছানিতে কক্সবাজারে লাখো মানুষের সমাবেশ হলেও অনেকের অভিযোগও রয়েছে। ঢাকার মালিবাগ থেকে আগত পর্যটক শরিকুল ইসলাম জানান, ‘সকালে সমুদ্র সৈকতের উত্তাল ঢেউ ভেঙে গোসল করা, আর বিকেলে সূর্যাস্ত দেখা ছাড়াও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। ’

সৈকতে কিটকট ব্যবসায়ী হাসান আহমদ জানান, বিপুল পর্যটকের উপস্থিতিতে ব্যবসা ভালই জমেছে। বর্ষা মৌসুম হলেও ঈদের ছুটিতে আবহাওয়া ভাল থাকায় পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে।

অপরদিকে কক্সবাজারে পর্যটকদের ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার রায়হানুল হাজেমী জানিয়েছেন, কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণে কোন বাধা নেই। ট্যুরিস্ট পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্যসহ নিয়মিত টহল পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, আগত পর্যটদরে নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ এক সাথে কাজ করছে। নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, পর্যটক হয়রানি বন্ধে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিম কাজ করছে।

পালংনিউজ টুয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।