কক্সবাজার সৈকতে যান্ত্রিক ব্যবহারে ধ্বংস হচ্ছে লাল কাঁকড়ার প্রজননস্থল

পিএন২৪ ডেস্ক – কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের এক অবিচ্ছেদ্য জীববৈচিত্রের অংশ লাল কাঁকড়া। একসময় লাল কাঁকড়ার দল কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতে নির্বিঘ্নে বিচরণ করলেও এখন তা দেখা যায় না। সৈকতে যান্ত্রিক ব্যবহার ও মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ধ্বংস হচ্ছে লাল কাঁকড়ার এই প্রজননস্থল।

তবে শহরতলীর দরিয়ানগর সৈকতের বড়ছড়ার মোহনা ও হিমছড়ি ১নং ব্রীজ এলাকায় লাল কাঁকড়ার বিচরণ দেখতে স্থানীয় ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসত প্রকৃতি প্রেমীরা। কিন্তু যে কাকড়ার দল পর্যটকদের বিমুহিত করত তা গত পক্ষকাল ধরে প্রকৃতিপ্রেমীরা দরিয়ানগর সৈকতে এসেও হতাশ। লাল কাঁকড়া না দেখেই ব্যর্থ মনোরথে ফিরছেন তারা।

ঢাকা ফকিরাপুল থেকে সপরিবারে বেড়াতে আসা রুমানা চৌধুরী জানান, সৈকতের লাল কাঁকড়ার বিচরণ দেখতে ছুটে এসেছিলেন সপরিবারে। আজ রবিবার বিকালে দরিয়ানগর সৈকত থেকে দক্ষিণ দিকে হাঁটতে হাঁটতে ২ কিলোমিটার পথ ঘুরেও সৈকতের কোথাও লাল কাঁকড়া দেখতে তিনি ও তার বন্ধুরা।

পরে ফেরার সময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- ‘আমরা দরিয়ানগরের নিকটবর্তী হিমছড়ি ১নং ব্রীজ সৈকতে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার জীবন্ত বিচরণ দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু তার পরিবর্তে দেখেছি সৈকতে মরে পড়ে থাকা লাল কাঁকড়া।’

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত প্রায় পক্ষকাল ধরে কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর সৈকতে অবৈধভাবে বীচ বাইক চলাচল করছে। বীচ বাইকের নীচে চাপা পড়ে মারা যাচ্ছে লাল কাঁকড়ার দল। এরফলে ভীত সন্ত্রস্ত লাল কাঁকড়ার দল দিনের বেলায় গর্তে অবস্থান করছে, আর রাতের বেলায় খাদ্যের সন্ধান করছে। তবে এরআগেই প্রতিদিন গর্তে চাপা পড়ে মারা যাচ্ছে অসংখ্য লাল কাঁকড়া। এরফলে এই সৈকতের জীববৈচিত্র্যও এখন ধ্বংসের পথে।

জানা যায়, লাল কাঁকড়ার বিচরণস্থল নির্বিঘ্নে করতে ২০০৭ সালে সমুদ্র সৈকতে বীচ বাইক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু নানা কৌশলে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে পূনরায় সৈকতে চলাচল শুরু করে বীচ বাইক। আর এতে কক্সবাজার সৈকতের বিপন্ন জীববৈচিত্র্যের উপর তৈরী করছে নতুন হুমকি।

পালংনিউজ টুয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।