কক্সবাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ছুরি, চাপতিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র!

পিএন২৪ – কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেট, সৈকতের লাবনী পয়েন্ট, হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, হিমছড়িসহ পুরো কক্সবাজার জুড়েই বিভিন্ন দোকানে শোপিচ এর নামে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে চাকু। থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ও বিভিন্ন ব্যান্ডের এসব চাকু সহজেই কিনে নিয়ে পেশাদার ছিনতাইকারী ও বখাটেরা জড়িয়ে পড়ছে খুন, ছিনতাই, অপহরণ সহ বিভিন্ন অপরাধে।

জানা গেছে, পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারের বিভিন্ন দোকানে দেশি-বিদেশি চাকু শোপিচ হিসেবে বিক্রির জন্য দোকানে রাখচে ব্যবসায়ীরা। থাইল্যান্ডের এসব চাকু ৫ ইঞ্চি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৩/১৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা। এসবের দাম ৩৫০ থেকে ৮০০/৯০০ টাকা পর্যন্ত। দেখতে অনেকগুলো চাকু টিপু সুলতানের তলোয়ারের মতো। আবার অনেকগুলো সুইচের চাকু। অনেকেই ফ্যাশনের জন্যে এসব চাকু কিনেন। আবার অনেকে শোপিচ হিসেবে রাখার জন্য এসব চাকু কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এসব চাকু পেশাদার ছিনতাইকারী ও বখাটেরা বেশি কিনছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।


সুত্র জানায়, সৈকত এলাকা জুড়ে গ্রুপ ভিত্তিক ছিনতাইকারী ও বখাটেরা এসব চাকু ব্যবহার করে পর্যটকদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে। এমনকি এই চাকু দিয়েই ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য পারভেজকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ইনানীতে ধরা পড়া দুই ছিনতাইকারীর কাছে থাইল্যান্ডের তৈরী সুইচ সিস্টেমের চাকু ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ পর্যায়ে পর্যন্ত এসব চাকু দিয়ে লোকজন যেনতেনভাবে হুমকি প্রর্দশন করতে দেখা যাচ্ছে। লোকজনের ধারণা-এসব থাইল্যান্ডী চাকু সহজে বহনযোগ্য ও সহজলভ্য হওয়ায় ছিনতাই, খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে এসবের ব্যবহার বাড়ছে। ফুটপাতের টোকাই এবং বেকার শ্রেনীর যুবকরা এসব চাকু নিয়ে নেমে পড়ছে ছিনতাইয়ে। কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটার ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, এসব চাকু সহজলভ্য। ছিনতাইকারীরাও সহজে বহন করতে পারে। আর সেই সুযোগে ছিনতাইকারীরা এসব ব্যবহার করছে। দোকানে প্রকাশ্যে এসব চাকু বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবী জানান তিনি।

ব্যবসায়ী আরো বলেন, আমার দীর্ঘ তিন বছরের ব্যবসায়ীক জীবনে দেখলাম পর্যটকদের কাছে খুবই পছন্দের হচ্ছে থাইল্যান্ডী চাকু। তবে এগুলো বেশিরভাগ তরুণ শ্রেণীর পর্যটকরা কিনেন। পর্যটকরা অনেকে বাড়িতে শাক সবজি কাটার কাজে ব্যবহার করতে আনন্দ পায় বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার আব্দুল কায়ূম চৌধুরী বলেন, এসব চাকু যদি ১৭ ইঞ্চি হয় তাহলে অস্ত্র আইনে বেচা-কেনা নিষেধ। তবে এগুলো বেশিরভাগ কক্সবাজারের স্থানীয় বখাটেরা কিনে ছিনতাই কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি জহিরুল ইসলাম বলেন, এসব চাকু দিয়ে পর্যটকরা বাড়িতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। শহরের বাহিরেও বড় আকারের চাকু বেচা কেনা হচ্ছে। কিন্তু কক্সবাজারের কতিপয় ছিনতাইকারী এসব চাকু ব্যবহার কারছে।

পালংনিউজ টুয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।